‘হিজড়াদের কর্মক্ষেত্রে আনতে সরকারের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন’
‘মূলধারার কর্মক্ষেত্রে তৃতীয় লিঙ্গ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিকরণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৭ নভেম্বর পথচলা ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ, অক্ষর গাড়ি ও তারুণ্যের প্রতিক বাংলাদেশ কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়েছে গোলটেবিল আলোচনা সভা। সভায় সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গ্রাসরুট আইটি’র প্রতিষ্ঠাতা তারেক আজিজ মাসউদ এবং সভাপতিত্ব করেন পথচলা ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা মনিষা মীম নিপুন। এসময় তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর কর্মেক্ষেত্রে প্রবেশ বিষয়ক অধিকার সম্পর্কে গোল টেবিল আলোচনায় প্যানেলিস্ট ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র আফরোজা জহুর, সিজেকেএস এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বন-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, থানা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জাহান উদ্দিন, চট্টগ্রাম কলেজের এসোসিয়েট প্রফেসর শিরিন আক্তার, তারুন্যের প্রতীক বাংলাদেশ এর সভাপতি গোলাম তৌসিফ প্রমুখ। আলোচনায় প্যানেল মেয়র আফরোজা জহুর বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষদের কর্মক্ষেত্রে নিয়োগের ব্যাপারে আমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে আলাপ করবো এবং নীতিনির্ধারণ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার চেষ্টা করবো। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জাহান উদ্দিন বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারার কর্মক্ষেত্রে আনয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং এই উদ্যোগগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অচিরেই আমরা সুদিন দেখতে পাবো। তিনি জোর দিয়েছেন সরকারের সাথে হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পরামর্শ আদান-প্রদানের ওপর। সিজেকেএস’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, সাধারণ জনগণ এবং হিজড়া জনগোষ্ঠী দুদিক থেকেই সহযোগিতামূলক মনোভাব পোষণ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রফেসর শিরিন আক্তার বিহেভিয়ার কাউন্সেলিং এর পরামর্শ প্রদান করেছেন। সূচনালগ্ন থেকেই হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার পাশাপাশি সম্প্রতি জাতিসংঘের মুভার্স অনুদান-২.০ এর অধীনে, পথচলা ফাউন্ডেশন ২০২২ সালের আগস্ট থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছে। এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় হিজড়া সম্প্রদায়ের কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি, ট্রান্স ফ্রেন্ডলি নীতি, বিভিন্ন সংস্থাতে সম্ভাব্য সুযোগ চিহ্নিত করা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের উপায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময়ব্যাপী আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত সকল অতিথিরা তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য গঠনমূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারার কর্মক্ষেত্রে আনয়নের ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।